তন্ময় রিপোর্টিং টাইমের অনেকটা আগেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেছে । একটা সময়ে বাবা - মাকে প্রনাম করে এয়ার ইন্ডিয়ার কাউন্টারের আর ইমিগ্রেশনের কাজ-কর্ম শেষ করে তিন নম্বর টার্মিনালে অপেক্ষা করতে লাগল বাংলাদেশের ঢাকা গামী বিমানে উঠবার জন্য । জীবনে এই প্রথম বিমানে চড়া । বাংলাদেশ আসবার আগে বাবা , মার থেকে অনেক গল্প শুনেছে - তাদের পূর্বপুরুষদের কোথায় কোন গ্রামে ঘর - বাড়ী , জমি - জমা ছিল । যদিও এখন সে সব কিছুই নেই । দেশ ভাগের সময় সব কিছু ছেড়ে দিয়ে এদেশে চলে আসতে হয়েছিল । বাংলাদেশ সম্বন্ধে না না ধরনের গল্পের সঙ্গে এটাও শুনেছে ও দেশের লোকজন অত্যন্ত অতিথিপরায়ন । এই সমস্ত ভাবতে ভাবতে একটা সময় তন্ময় টের পেল বিমান ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে পরেছে ।
তন্ময় সেন । বয়েস ২৮ বছর । খুব সুন্দর চেহারা । বাবা - মার একমাত্র সন্তান । উচ্চবৃত্ত পরিবারের ছেলে । কলকাতায় নিজেদের বড় ফ্ল্যাট । ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে পড়াশুনা করে কলকাতার এক নাম করা কলেজ থেকে সুনামের সঙ্গে MBA কমপ্লিট করেছে । বিখ্যাত একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে জুনিয়র ম্যানেজারের পোস্টে জয়েন করে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে এসেছে প্রথম পোস্টিং নিয়ে । পূর্ব নির্ধারিত ব্যবস্থা অনুযায়ী এয়ারপোর্টের গেটের বাহিরে তার নাম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে গাড়ীর ড্রাইভার নির্দিষ্ট হোটেলে পৌঁছে দেবার জন্য দাঁড়িয়ে আছে । তন্ময়কে সেলাম করে ড্রাইভার হোটেলে পৌঁছে দিয়ে বললো - স্যার , আমি কাল সকাল সাড়ে নটার মধ্যে হোটেলে চলে আসব আপনাকে অফিসে পৌঁছে দেবার জন্য ।
ঢাকা শহরের ব্যস্ত এলাকায় একটি ঝা-চকচকে বিল্ডিংয়ের ৮ তলার পুরো ফ্লোরটা নিয়ে অফিস । প্রথমে ঢুকেই " reception " । খুব সুন্দর ভাবে সাজানো । খুব হালকা করে একটা মিউজিক বাজছে । reception এ বসা অতিব সুন্দরী মহিলাটির কাছে নিজের পরিচয় দিতেই , অত্যন্ত মার্জিতভাবে উঠে দাঁড়িয়ে প্রাথমিক সম্ভাসন জানিয়ে বিনীত ভাবে তন্ময়কে বসতে বললেন । মৃদুস্বরে টেলিফোনে কারুর সঙ্গে কথা বলে একজন বেয়ারাকে ডেকে বললেন - এনাকে জাহির সাহেবের চেম্বারে পৌঁছে দাও ।
অফিসের ভিতরটা ও খুব সুন্দর করে সাজানো গোছানো । একটু গিয়ে বাদিকে বড় বন্ধ দরজাটার সামনে দাঁড়াতে চোখে পরলো - দরজার গায়ে কালো নেম প্লেটে সোনালি রঙ দিয়ে বড় বড় করে লেখা রয়েছে - " জাহির হোসেন ইকবাল " - " জেনারেল ম্যানেজার " । ঘরে ঢুকে সম্ভাসন করতেই , তিনিও সম্ভাসন করে তন্ময়কে বসতে বললেন । বয়স আনুমানিক ৫০ এর ধারেকাছে । সুঠাম শরীর , দুধে - আলতা গায়ের রঙ । সোনালী ফ্রেমের দামী চশমা । মাথায় ঘন কালো চুল আর বেশ পরিপাটি করে আঁচড়ান । পরনে দামী সুট - টাই । গলার স্বরটি গম্ভীর । সব মিলিয়ে বেশ ব্যক্তিত্বপূর্ণ চেহারা । চেম্বারটি বেশ বড় আর ঘরটায় একটা সুগন্ধি ছড়ানো । পরিবেশকে হালকা করার জন্য জাহির সাহেব মৃদু হেসে বললেন - তুমি আমার থেকে বয়েসে অনেকটাই ছোট , তোমাকে আমি তুমি করেই বলছি । কাল তোমার হোটেলে বোধহয় ভাল করে ঘুম হয় নি । দু-তিন দিনের মধ্যে কোম্পানীর তরফ থেকে ঢাকা শহরে তোমাকে ফার্নিসড ফ্লাট দেয়া হবে । কলকাতার অফিস থেকে তোমার সম্পর্কে আমাকে সব বলে দেওয়া হয়েছে । আর একটা কথা , এখানে যারা কাজ করেন সবাই খুব ভালো । আশাকরি , তোমার কোন অসুবিধা হবে না । যদি কোন সমস্যা হয় , তুমি আমাকে নির্দ্বিধায় জানাবে । বেল পুশ করে একজনকে ডেকে বললেন - ইনি তোমাদের নতুন তন্ময় স্যার , কলকাতা থেকে এসেছেন । ওনার জন্য যে চেম্বারটি এলোট করা হয়েছে , সেটা ওনাকে দেখিয়ে দাও । তন্ময়কে বললেন - তুমি তোমার চেম্বারে গিয়ে বোস । ঘন্টাখানেক পর আমি তোমার সঙ্গে কাজের ব্যপারে আলোচনা করবো । তারপরে তোমাকে অফিসের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের লোকেদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব ।
তন্ময়ের চেম্বারটি ও খুব সুন্দর করে সাজানো । ৮ তলার উপর থেকে জানালা দিয়ে ঢাকা শহরটাকে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে । এরমধ্যে জাহির সাহেবের সঙ্গে কাজের ব্যপারে আলোচনা হয়েছে আর অফিসের লোকেদের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে পরিচয় পর্বটিও হয়েছে । সব মিলিয়ে অফিসের প্রথম দিনটি ভালোই কাটলো । অফিস থেকে হোটেলে ফিরে কলকাতায় মা-বাবাকে রেডিওতে ফুটবল খেলার ধারাবিবরনীর মত অফিসের প্রথম দিনের সমস্ত খবর জানতে হোল ।
তন্ময়ের এই অফিসে প্রায় ছ-মাস কাজ করা হয়ে গেল । অফিসে কাজের পরিবেশ আর সহকর্মীদের ব্যবহার , তন্ময়ের ভালই লাগছে । জাহির সাহেব তন্ময়ের কাজে খুব খুশি । এখন কোম্পানীর গুরুত্ত্বপূর্ণ মিটিংয়ে তন্ময়কে উপস্থিত থাকতে হয় । আজ অফিস ছুটি হওয়ার একটু আগে জাহির সাহেব তন্ময়কে ডেকে বললেন - তাঁর গাড়ীটি সার্ভিসিং এর জন্য ওয়ার্কশপে রয়েছে আর এই মাত্র জানতে পারলেন গাড়ী ডেলিভারি পেতে আরও দু ঘন্টা সময় লাগবে । এখুনি কোন ভাড়ার গাড়ী ও পাওয়া যাচ্ছে না । বাড়ীতে যাওয়ার একটু তাড়া আছে । তন্ময় যেন আজ তার গাড়ীতে জাহির সাহেবকে বাড়ীতে পৌঁছে দেয় । তন্ময় হেসে বলল - নিশ্চই স্যার ।
জাহির সাহেবের বাড়ীর সামনে আসতে , তিনি তন্ময়কে বললেন - আমার বাড়ীর সামনে থেকে ফিরে যাবে , সেটাতো হয় না । বাড়ীর ভিতরে এস , একটু কফি খেয়ে যাও । জাহির সাহেব দরজার কলিং বেলটা বাজাবার পর যে এসে দরজা খুললো , তন্ময়ের পুরো দৃষ্টি অজান্তে তার দিকেই পরলো । এত সুন্দরী মেয়ে সে বোধ হয় জীবনে খুব কমই দেখেছে । বয়স মনে হয় ২২ কিংবা ২৩ । গায়ের রঙ মাখনের মত । সুন্দর স্বাস্থ । কপাল , চোখ , নাক , মুখ ভগবান যেন নিখুঁত ভাবে সৃস্টি করেছেন । মাথা ভর্তি এক রাশ ঘন কালো চুল । বেশ দামী সাদা রঙের সিল্কের শাড়ী পরা । শাড়ীর পাড়টায় সোনালী রঙের সুতো দিয়ে সুন্দর ভাবে কাজ করা । মনে হল হাতে একটা বীণা থাকলে একেবারে সাক্ষাৎ সরস্বতী প্রতিমা । জাহির সাহেবের ডাকে তন্ময় সম্বিত ফিরে পেল -- তন্ময় ভিতরে এস , এ আমাদের একমাত্র কন্যা -- সুলতানা । সুলতানা তার টোল পরা গালে একটা সুন্দর হাসি দিয়ে ভিতরের ঘরে চলে গেল । একটু পরে কফি আর জলখাবার নিয়ে আর একজন মহিলা হাসি মুখে ঘরে ঢুকলেন । ইনিও বেশ সুন্দরী আর বোঝাই গেল ইনি জাহির সাহেবের স্ত্রী । জাহির সাহেব তন্ময়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন । কিন্তু মনে মনে যাকে আবার দেখবার জন্য দারুন ভাবে ইচ্ছে করছিল , তাকে আর এ ঘরে দেখা যাচ্ছিল না । জাহির ম্যাডাম হেসে বললেন - কি হলো তন্ময় ? তুমি এত কি ভাবছো ? কিছুইতো খাচ্ছ না । লজ্জা করো না । তুমি তো সোজা অফিস থেকে এখানে এসেছ । তুমি খেয়ে নাও । সেদিন জাহির ম্যাডামের সঙ্গে অনেক গল্প হল , কলকাতায় কোথায় থাকি , বাড়ীতে কে কে আছেন ? ঢাকা শহর কি রকম লাগছে ইত্যাদি । কিন্তু যার জন্য বসে থেকে অপেক্ষা করা তাকে আর এঘরে দেখাই গেল না ।
এরমধ্যে বেশ কয়েকবার না না ধরনের ছুতো করে তন্ময় জাহির সাহেবের বাড়ীতে গিয়েছে শুধুমাত্র সুলতানার জন্য । প্রতিবারই কিছুটা সময়ের জন্য তার দেখা মিলেছে কিন্তু কোনবার কথাবার্তা হয় নি । তন্ময় ক্রমশ বুঝতে পারছে সে সুলতানাকে মনে মনে খুবই ভালবেসে ফেলেছে । কিন্তু তার এই মনের কথাটি সুলতানাকে জানাবার কোন সুযোগই সে পায় নি । আর সুলতানার মনের কথাটিও সে জানতে পারে নি । মনে মনে ভাবে কি করে তার ভালোবাসার কথা সুলতানাকে জানাবে । একটা সময় সমস্ত দ্বিধা কাটিয়ে ঠিক করে জাহির সাহেবকে সোজাসুজি তার মনের কথা জানিয়ে বলবে - সে সুলতানাকে ভালবাসে আর তাকে বিয়ে করতে চায় .....। কাজের ফাঁকে এইসব কথা চিন্তা করতে করতে হটাৎই ইন্টারকমএ জাহির সাহেবের ফোন । .... ফ্রী হলে তন্ময় যেন জাহির সাহেবের চেম্বারে আসে ।
জাহির সাহেব তন্ময়কে বসতে বলে একটু সময় নিয়ে সোজাসুজি তাকিয়ে বললেন - তোমাকে কোন কাজের জন্য ডাকি নি । কয়েকদিন ধরে দেখছি তুমি একটু অন্যমনস্ক । বেশিরভাগ সময়ই তুমি কিছু চিন্তা কর । কি হয়েছে তোমার , কোন ব্যক্তিগত প্রবলেম বা কাজের ব্যপারে কোন সমস্যা ? তুমি যদি মনে কর তবে আমাকে বলতে পার । আমার দ্বারা যদি কোন হেল্প হয় আমি নিশ্চই করব । তুমি ভাল করে জান এই অফিসে আমি তোমাকে একটু বেশি পছন্দ করি । তন্ময় প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করে তারপরে ধীরে ধীরে তার মনের সবকথা খোলাখুলি ভাবে জাহির সাহেবকে জানাল । কিছুক্ষন চুপ থেকে জাহির সাহেব বোধহয় কিছু ভাবলেন তারপর একটু কঠিন গলায় বললেন - আমরাও বেশ কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করেছি তুমি আমাদের বাড়ীতে যাওয়ার পর থেকেই আমার মেয়ের হাবভাবটা একটু অন্য রকম । প্রায়ই ইনিয়ে বিনিয়ে তোমার প্রসঙ্গে আলোচনা করে । এখন বুঝতে পারছি প্রকৃত কারনটা । তন্ময় , আমি তোমাকে ভালোবাসি , তোমাকে বেশি পছন্দ করি এটাও ঠিক কিন্তু একটা কথা তোমাকে জানিয়ে রাখি তোমার দেওয়া প্রস্তাব অসম্ভব , এটা কখন হতে পারে না । প্রথম যেদিন তোমাকে দেখি আমারও খুব ইচ্ছে হয়েছিল তোমাকে আমাদের জামাই হিসেবে পেতে । পরবর্তীকালে তোমার ভাবী যখন তোমাকে প্রথম দেখে তারও ঠিক একই ইচ্ছে হয়েছিল । আর এখন বুঝতে পারছি তোমরা দু-জন দুজনকে পছন্দ কর । তা সত্বেও তোমাকে বলতে বাধ্য হচ্ছি , এই বিয়ে কিছুতেই হতে পারে না । আর একটা কথা , আমরা আমাদের মেয়ের জন্য তার সঙ্গে মানানসই পাত্র দেখা শুরু করেছি । তন্ময় এবার বেশ বিহ্বল হয়েই বলল - স্যার , এই বিয়েতে বাঁধা কোথায় , আমি কি আপনাদের মেয়ের যোগ্য নই ? জাহির সাহেব এবার বেশ ধরা গলায় বললেন - তোমার মত ছেলেকে জামাই হিসেবে পাওয়া আমাদের কাছে সত্যি ভাগ্যের ব্যপার । কিন্তু আবার ও বলছি তোমার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হতে পারে না । আর কেন এই বিয়েতে আমরা রাজী নই সেটা আমি তোমাকে সময়মত বুঝিয়ে বলব । এবার তুমি তোমার চেম্বারে যেতে পার ।
এই ঘটনার বেশ কিছুদিন পর , সকালবেলা তন্ময় অফিসে ঢুকতেই বেয়ারা এসে বলল - জাহির সাহেব আপনাকে বেশ কয়েকবার খুঁজেছেন , আপনি আসলেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন । তন্ময়কে দেখে জাহির সাহেব আনন্দ সহকারে বললেন - তন্ময় বোসো । তোমার জন্য কোম্পানীর তরফ থেকে দারুন একটা সুখবর এসেছে । যদিও এই খবরটা যে আসতে পারে সেটা আমি কয়েকদিন আগে থেকেই আচঁ করতে পেরেছি , তবে কি জান - এই খবরে আমার একটু কষ্ট হচ্ছে । কোম্পানী তোমার কাজে খুশী হয়ে আমাদের লন্ডন অফিসে তিন বছরের জন্য বদলি করেছে আরো বেশি কাজের দায়িত্ব আর বড় একটা প্রমোশন দিয়ে । এই খবরে ব্যক্তিগত ভাবে আমি দারুন খুশি তারপর একটু হেসে বললেন - তোমার এই বদলির জন্য আমার কেন কষ্ট হচ্ছে জান ? তোমার মত এত ভাল ছেলেকে আমি তিন বছরের জন্য এই অফিসে পাব না । জাহির সাহেবের কথা শেষ হবার পর , তন্ময় মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে বলল - স্যার , আমাকে কাজের জন্য এ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে হবে অনেক দিনের জন্য । আপনি আমাকে বলেছিলেন - একদিন আমাকে সবকিছু বুঝিয়ে বলবেন কেন আপনার মেয়েকে আমার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় ! আশা করি এবার আপনি আমাকে সব কিছু বলবেন ।
আজ জাহির সাহেবের বাড়ীতে তন্ময়ের ডিনারের নিমন্ত্রন । কাল সকালের বিমানে কলকাতা । দুদিন কলকাতায় কাটিয়ে লন্ডনের অফিসে জয়েন করতে হবে । সুলতানা আজ প্রায় সারাটা সময়ই তন্ময়ের আসেপাশে থেকেছে । সুলতানার মনটা আজ ভরাক্রান্ত । সে ও জানে তন্ময় প্রায় তিন বছরের জন্য বাংলাদেশে থাকবে না । তন্ময়ের মনে হয় সুলতানা হয়ত তাকে কিছু বলতে চায় ।
একটা সময়ে জাহির সাহেব তন্ময়কে সুলতানার বিষয়ে সব কথাই খুলে বললেন । সুলতানা তাদের একমাত্র অতি আদরের কন্যা । প্রায় সব গুনেই সে সমৃদ্ধ । কিন্তু সে জন্ম থেকে বোবা , কথা বলতে পারে না । আকার-ইঙ্গিতে সবকিছু বলার চেষ্টা করে । জাহির সাহেবকে এবার একটু অন্য রকম লাগছে । তিনি তন্ময়কে বললেন - এবার তুমি বল এটা জানার পর তুমি কি আমাদের বোবা মেয়েকে বিয়ে করতে চাইবে ? তারপরে ধর্মের একটা বাঁধা রয়েছে । আমরা মেনে নিলেও তোমার বাবা , মা হয়ত মেনে নেবেন না । তন্ময় , তোমার এখন অল্প বয়েস । আজ আমার মেয়েকে হয়ত তোমার ভাল লেগেছে আর সেই মোহে তুমি ওকে বিয়ে করতে চাইছ । কিন্তু বিয়ের পর যখন তোমার মোহ কেটে যাবে আর বুঝতে পারবে তুমি ভুল করে একটা বোবা মেয়েকে বিয়ে করেছ -- তখন আমার মেয়েটার কি অবস্থা হবে ? তন্ময় , তুমি আর বিয়ের কথা বলো না , এতে আমাদের খুব কষ্ট হয় । তন্ময় সব কথা শুনে একটু সময় নিয়ে বলল - আমি আপনার মেয়ের কথা আগেই কিছুটা শুনেছি অফিসের সহকর্মীদের থেকে । আমি জানি ও কথা বলতে পারে না । আমি সুলতানার উপর কোন দয়া দেখাচ্ছি না বা কোন মোহের বশবর্তী না হয়েই সব কিছু জেনেই আমি ওকে বিয়ে করতে চাই । আপনারা দেখবেন বিয়ের পর ও সব সময় সুখেই থাকবে । আর একটা কথা - সুলতানা সম্পর্কে আমি আমার বাবা , মার সঙ্গেও আলোচনা করেছি । তাঁরা এই বিয়েতে স্বতস্ফুর্ত ভাবে মত দিয়েছেন । প্রথমত , ধর্মের ব্যপারে তাঁদের কোন গোঁড়ামি নেই । আর সুলতানা যে কথা বলতে পারে না , এতেতো তার কোন দোষ নেই , ভগবান তাকে এভাবেই সৃষ্টি করেছেন । আমার বাবা , মা আনন্দ সহকারে শুধু মতই দেন নি , আমাকে বেশি করে উৎসাহিত করেছেন সুলতানাকে বিয়ে করবার জন্য । তন্ময়ের সব কথা শোনার পর জাহির সাহেব ও তাঁর স্ত্রী ভিতর থেকে অনেক কষ্ট নিয়েই বললেন - তুমি কিছু মনে কর না , আমরা সবদিক বিবেচনা করেই বলছি তুমি তিন বছর সুলতানার থেকে অনেক দুরে থাকবে । এই তিন বছর তুমি ভাল করে চিন্তা কর তারপর এখানে ফেরার পর তুমি যদি সুলতানাকে বিয়ে করতে রাজী থাক , আমরা নিশ্চই এই বিয়ের আয়োজন করব ।
একদিন যে আনন্দ নিয়ে তন্ময় কলকাতা থেকে ঢাকাগামী বিমানে উঠেছিল আজ ততোধিক দুঃখ , চিন্তা নিয়ে ঢাকা থেকে কলকাতাগামী বিমান ধরতে এসেছে । বিমানবন্দরের ভিতরে ঢুকে হটাৎ কাঁচের বাহিরে দেখতে পেল জাহির সাহেব আর তাঁর স্ত্রী , কন্যাকে । দুর থেকে মনে হল তাদের তিনজনের চোখে জল । তারা কোনরকমে হাত তুলে তাকে গুডবাই জানাচ্ছে । সুলতানা হয়তো তার সজল চোখের ভাষা দিয়ে বোঝাতে চাইছে -- তন্ময় , তুমি ভাল থেক , আমিও তোমাকে খুব ভালবাসি । আমি জানি তুমি একদিন ফিরে আসবেই আর সে দিনটার জন্য আমি অপেক্ষা করতে থাকব । তন্ময় কোন রকমে হাত তুলে সুলতানাকে বোঝাতে চাইল আমি ও তোমাকে খুব ভালবাসি । তুমি দেখ , আমি তিন বছর বাদে ঠিক তোমার কাছে ফিরে আসব । তন্ময় ইমিগ্রেশনের কাউন্টার ছেড়ে আস্তে আস্তে নির্দিষ্ট টার্মিনালে প্রবেশ করল কলকাতাগামী বিমানের জন্য ।
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
সত্যি করে ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে এই গল্পটি লিখবার চেষ্টা করছি । আশা করি আপনাদের গল্পটি পড়ে ভাল লাগবে .....
১২ আগষ্ট - ২০১৭
গল্প/কবিতা:
৫৫ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
আগামী সংখ্যার বিষয়
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুন,২০২৬